আস-সুন্নাহ একাডেমি প্রসপেক্টাস

দ্বীনি ও জেনারেল শিক্ষার এক ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয়

সরাসরি আবেদন
একাডেমিক প্রসপেক্টাস ২০২৬
Logo

আস-সুন্নাহ একাডেমি

মজুগুন্নি আ/এ, মজুগুন্নি মহাসড়ক, খালিশপুর, খুলনা

তত্ত্বাবধায়ক ও চেয়ারম্যান মুফতি ইসহাক ফরিদি

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার। অবিরত শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি।

কেন আস-সুন্নাহ একাডেমি

সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন শিক্ষাধারার মধ্যে মাদরাসা শিক্ষাধারা সুপ্রাচীন এবং কল্যাণমুখী শিক্ষার ধারক হিসেবে সুবিদিত। এই শিক্ষাধারা ইসলামী জীবন-দর্শনের আলোকে উপমহাদেশে গড়ে তুলছে পরকালমুখী মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ মানুষ। কিন্তু এই শিক্ষাধারা নৈতিকতা ও মূল্যবোধের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ একদল দক্ষ আলেম তৈরিতে সফল হলেও সময়োপযোগী ও সৃজনশীল মানুষ সেভাবে গড়ে উঠছে না।

পক্ষান্তরে প্রচলিত সাধারণ শিক্ষাধারা পার্থিব শিক্ষায় শিক্ষিত করছে বটে, কিন্তু নৈতিকতা এবং প্রকৃত জীবনবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে উঠছে না। এজন্য আমরা মনে করছি এমন একটি প্রতিষ্ঠান দরকার যা উন্নত চরিত্রসমৃদ্ধ কুরআন-সুন্নাহর গভীর জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ তৈরি করবে, যারা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানেও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই আস-সুন্নাহ একাডেমির অভিযাত্রা।

মিশন ও ভিশন

হিফযুল কুরআনসহ দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি ভাষা হিসেবে আরবি ও ইংরেজিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আত্মস্থ করানো এবং বিজ্ঞানসহ প্রয়োজনীয় জাগতিক বিষয়ে ধারণা দেওয়ার মাধ্যমে কুরআন-সুন্নাহর গভীর জ্ঞানসম্পন্ন যুগসচেতন দক্ষ আলেম ও বিচক্ষণ দাঈ ইলাল্লাহ তৈরি করা আস-সুন্নাহ একাডেমির মূল লক্ষ্য। এর ফলে শিক্ষার্থীরা যুগসচেতন ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বিজ্ঞ আলেম হয়ে উম্মাহর সেবায় নিরত হবে ইন-শা-আল্লাহ।

সিলেবাসের রূপরেখা

আস-সুন্নাহ একাডেমির সিলেবাস এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে একজন শিক্ষার্থী কুরআনুল কারীমের হিফয সম্পন্ন করবে এবং জাগতিক মৌলিক জ্ঞান সম্পন্ন আলেম ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। প্রাথমিকে নাজেরা ও ন্যূনতম ৫ পারা হিফজের পাশাপাশি বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি ভাষায় পূর্ণাঙ্গ পাঠদান করা হয়।

আস-সুন্নাহ একাডেমির বিশেষ মনোযোগ

১. হিফযুল কুরআন:

আন্তর্জাতিক মানের তাজউইদসহ পাঠদান। শিক্ষার্থীদের মেধা অনুযায়ী হিফজ সম্পন্ন করানো হয়। তবে ন্যূনতম ৫ পারা হিফয সম্পন্ন করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক।

২. আরবি, ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় দক্ষতা:

ভাষা শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান। নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরবি ও ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলা ও লেখার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়।

৩. আখলাক ও মূল্যবোধ:

অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমলি জীবন গড়ে তোলা, শিষ্টাচার, সততা ও সুন্দর আচার-আচরণকে প্রাত্যহিক রুটিনে অভ্যাসে পরিণত করা।

৪. অভিভাবক নাসীহা প্রোগ্রাম:

শিক্ষক-অভিভাবক যৌথ অংশীদারিত্বে সন্তানের সার্বিক মানোন্নয়নে নিয়মিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনামূলক নাসীহা সভা আয়োজন।

আস-সুন্নাহ একাডেমির বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য

  • ✔ কুরআনুল কারীমের হিফয এবং সাধারণ শিক্ষার চমৎকার সমন্বয়।
  • ✔ মাতৃভাষার পাশাপাশি আরবি ও ইংরেজিতে বিশেষ গুরুত্বারোপ।
  • ✔ নিজস্ব কারিকুলামে প্রণীত ইসলামিক স্টাডিজের পাঠদান।
  • ✔ প্রাথমিক স্তর শেষে মাদরাসা বা স্কুলে রুট পরিবর্তনের সুযোগ।
  • ✔ অভিভাবকদের জন্য নিয়মিত দ্বীনি শিক্ষা ও কাউন্সেলিং।
  • ✔ আন্তর্জাতিক মানের তাজউইদ ও সুন্দর কিরাআত প্রশিক্ষণ।

সুযোগ-সুবিধাসমূহ

🚌 নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা:

নির্দিষ্ট রুটের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে প্রতিষ্ঠানে আনা-নেওয়ার সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা।

🏠 আবাসিক ছাত্রাবাস:

রুচিসম্মত স্বাস্থ্যকর খাবার, নিরাপদ পরিবেশ ও শিক্ষকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে আবাসিক ব্যবস্থা।

🎓 স্কলারশিপের সুযোগ:

মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ ও আংশিক স্কলারশিপ প্রদান করা হয়।

👨‍👩‍👦 সহোদরদের জন্য ছাড়:

একই পরিবারের একাধিক সন্তান ভর্তি হলে ২য় জনের টিউশন ও ভর্তি ফিতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা।

অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা:

  • • ডিজিটাল স্মার্টবোর্ডের মাধ্যমে আধুনিক পাঠদান।
  • • সমৃদ্ধ নিজস্ব লাইব্রেরি ও উন্মুক্ত পাঠাগার।
  • • সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ক্যাম্পাস সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ।
  • • শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফার্স্ট এইড ব্যবস্থা।

সুস্থ বিনোদনমূলক কার্যক্রম:

  • • সাপ্তাহিক ও বার্ষিক হামদ-নাত ও কিরাত প্রতিযোগিতা।
  • • সুন্দর হস্তাক্ষর, ড্রয়িং ও বিজ্ঞান প্রদর্শনী।
  • • শিক্ষাসফর এবং ইনডোর-আউটডোর শারীরিক কসরত।

শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম

👦 ছাত্রদের পোশাক: একাডেমির লোগো সম্বলিত সাদা জুব্বা, সাদা পায়জামা, সাদা টুপি (জালি) ও সাদা মোজা এবং কালো জুতা।
👧 ছাত্রীদের পোশাক: সাদা কামিজ, সাদা সালোয়ার, একাডেমির লোগো সম্বলিত সাদা হিজাব ও সাদা মোজা এবং কালো জুতা।

ভর্তির ক্ষেত্রে শ্রেণিভিত্তিক বয়সসীমা

শ্রেণি বয়সসীমা শ্রেণি বয়সসীমা
প্লে ৩—৪ বছর দ্বিতীয় শ্রেণি ৭—৮ বছর
নার্সারি ৪—৫ বছর তৃতীয় শ্রেণি ৮—৯ বছর
কেজি ৫—৬ বছর চতুর্থ শ্রেণি ৯—১০ বছর
প্রথম শ্রেণি ৬—৭ বছর পঞ্চম শ্রেণি ১০—১১ বছর